প্রথম পর্বের সিলেবাস টি দুটি পার্টে আমরা পড়বো ।
প্রথম পার্টে ০১ পাতা থেকে ২৫ পাতা পর্যন্ত আলোচনা হবে ।
দ্বিতীয় পার্টে ২৬ পাতা থেকে ৫০ পাতা পর্যন্ত আলোচনা করা হবে ।
চলো শুরু করা যাক পার্ট-০১ এর আলোচনা
পার্ট (০১ পাতা থেকে ২৫ পাতা পর্যন্ত)
প্রথম পাতা থেকে আমরা নানা ধরনের খেলাধুলা সম্পর্কে জানতে পারি এবং কোন খেলায় শরীরের কোন অংশের কাজ বেশি হয় সেটা জানতে পারি ।
যেমন, *ফুটবল খেলায় পায়ের কাজ বেশি হয় ।
*ক্রিকেট খেলায় হাত ও পা দুই এর কাজ হয় অনেক বেশি ।
*স্কিপিং এ আঙুল,কব্জি,কনুই,কাঁধ,ও পা এর কাজ হয় ।
*এক্কাদোক্কা, কিতকিত খেলায় পা এর পাতা,গোড়ালি, ও হাঁটুর
কাজ হয় অনেক বেশি ।
দ্বিতীয় পাতায় আমাদের হাত ও পা এর কিছু অংশের ছবি দেওয়া আছে। আর তার সাথে সেখানে একটি ছকও দেওয়া আছে। হাত ও পা এর বিভিন্ন অংশগুলো আমরা কিভাবে কাজে লাগায় সেটাই ঐ সেই ছকে লিখতে বলা হয়েছে। ছকটি এখানে করে দেওয়া হল ।
তৃতীয় পাতা থেকে আমরা জানতে পারছি যে,
* কানে ময়লা জমার ফলে আমরা কানে কম শুনি । সেই কারনে আমাদের নিয়মিত কিছুদিন অন্তর কান পরিস্কার করা দরকার । তবে ছোটদের উচিত কান পরিস্কার করার সময় বড়দের সাহায্য নেওয়া।
০৪ নং পাতা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে,
* নাক দিয়ে আমরা শ্বাস নিই, আর শ্বাস নেবার ফলে যে বাতাস আমাদের শরীরের মধ্যে ঢোকে, তা আমাদের শরীরে ফুস্ফুসে প্রবেশ করে, ফলে ফুস্ফুস টি ফুলে ওঠে।
* ঠোঁট ও জিবের সাহায্যে আমরা কথা বলি
* কান ছাড়া মুখের বিভিন্ন অংশে ময়লা জমে যেমন,
১। চোখের কোণায়
২। জিবে
৩। দাঁতে ও
৪। নাকে
চার নম্বর পাতায় একটি ছক করতে দেওয়া আছে , সেটা করে দেওয়া হল ।
০৪ এবং ০৫ নম্বর পাতাটা পরলে আমাদের গা, হাত ও পা এর যত্ন কিভাবে নিতে হবে সেটা বুঝতে পারবো । এই দুটি পাতা থেকে আমরা জানলাম যে,
* হাত ও পা এর নখ বড় হলেই তা কেটে ফেলতে হবে ।
* তাছাড়া শরীরে যাতে ময়লা না জমে (বিশেষত শরীরের চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে, ঘাড়ে ও কানের পিছনে) তার জন্য মাঝে মাঝে জায়গা গুলো সাবান দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে ।
০৬ নম্বর পাতা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে,
* দাঁত ও জিভে ময়লা পরিস্কার করার জন্য রোজ সকালে দাঁত মাজার পর, জিভ ছোলা দিয়ে ভালো করে জিভ ছুলে নিতে হবে । ( রোজ সকালে তো দাঁত মাজতেই হবে, তবে
রাতে শোবার আগে আর একবার দাঁত মেজে নিলে সেটা স্বাস্থের পক্ষে ভালো )
*দাত মাজার সময় ব্রাশকে উপর নীচে ও পাশাপাশি ঘষতে হয়।
* দাঁত না মাজলে মুখে দুর্গন্ধ হয় ও তাড়াতাড়ি দাঁত নষ্ট হয়ে যায় ।
* দাঁতের পাশাপাশি নাকের ভিতরে ও চোখের কোণায় জমে থাকা ময়লাও
জলের সাহায্যে পরিস্কার করতে হয় ।
০৭ নম্বর পাতা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে,
চোখ, কান, নাক, জিভ ও চামড়া (বা ত্বক) - এই পাঁচটি ইন্দ্রিয় মিলে হয়
পঞ্চেন্দ্রিয় । এই পাঁচটা ইন্দ্রিয়র প্রত্যেকটাই আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকারি । এদের
প্রত্যেকের কাজ আমাদের জেনে রাখা দরকার । যেমন,
* চোখ- চোখের সাহায্যে আমরা দেখি
* কান- কানের সাহায্যে আমরা শুনি
* নাক- নাকের সাহায্যে আমরা গন্ধ অনুভব করি
* জিভ- জিভের সাহায্যে আমরা স্বাদ গ্রহন করি, ও
জিভের সাহায্যে আমরা কথা বলতে পারি
* চামড়া (ত্বক)- ত্বকের সাহায্যে আমরা স্পর্শ অনুভব করি । তাছাড়া
ঠাণ্ডা ও গরমের তফাৎ আমরা চামড়ার সাহায্যে বুঝি ।
০৮ নম্বর পাতায় শুরুতেই একটা ছক করতে দেওয়া আছে, যদিও এটা আমরা আগের পাতা পড়ার
সময় আলোচনা করে নিয়েছি । ছকটি করে দেওয়া হল ।
০৯ ও ১০ পাতা পড়লে আমরা বুঝতে পারবো যে,
* অনেক সময় একটা ইন্দ্রিয়র কাজ অন্য ইন্দ্রিয় করে দেয়।
যেমন ধরো, কানামাছি খেলার সময়, চোখ বাঁধা থাকা সত্বেও
আমরা বলে দিতে পারি যে, "কানামাছি ভোঁ ভোঁ " বাক্য টা কে
বলল, বা এই আওয়াজ টা কোন দিক থেকে এলো। এক্ষেত্রে
চোখের কাজটা কান করে দেয় । সেই কারনে যারা চোখে কম
দেখে তাদের কানে শোনার ক্ষমতা অনেক বেশি হয় ।
১০ ও ১১ নম্বর পাতা পড়লে আমরা বুঝতে পারি যে, চোখ আমাদের খুবই কাজে লাগে।
চোখ আমাদের সব কিছু দেখতে শেখায়, চিনতে শেখায়। তাই চোখের যত্ন নেওয়া উচিত
চোখের সমস্যা হলে,
* মাথা ব্যাথা হতে পারে।
* দূরের বা কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হতে পারে
* চোখ দিয়ে জল পরতে পারে
* চোখ চুলকাতে পারে
* চোখ লাল হয়ে যেতে পারে
* কিছু কিছু ক্ষেত্রে রঙ চিনতে অসুবিধা হতে পারে
* রাতকানা রোগ হলে রাতের বেলায় দেখতে অসুবিধা হয় ।
সুতরাং, চোখের কোন সমস্যা দেখা দিলে শীঘ্রই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে
বা চশমা পরলে সমস্যা দূর হয় ।
১২ ও ১৩ নং পাতা থেকে আমরা জানতে পারবো যে,
আমাদের ইন্দ্রিয় গুলো খুব সজাগ।
শরীরে সামান্য উদ্দিপনা হলেই তারা সাড়া দেয় । যেমন ধরো,
* খুব বেশি আলো এসে চোখে পরলেই চোখ নিজে থেকেই বন্ধ
হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড আলো এসে পরায় শরীরে যে উদ্দিপনা সৃষ্টি হল তাতে সাড়া দিল
চোখ ।
* প্রচণ্ড গরমে চামড়া থেকে ঘাম বেরোয় । এক্ষেত্রে, গরম বেড়ে
যাওয়ায় শরীরে উদ্দিপনা সৃষ্টি হলে চামড়া (ত্বক) সাড়া দেয় ।
* আবার অত্যাধিক ঠাণ্ডায় চামড়া (ত্বক) ফেটে যায়। এই ক্ষেত্রেও
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পরায় আমাদের ত্বক বা চামড়া উদ্দিপনায় সাড়া দিল ।
* আবার দেখ জরে বাজ পড়ার শব্দে অনেক সময় কানে তালা ধরে
যায়। এক্ষেত্রে, শব্দ উদ্দীপকটির প্রভাবে কান সাড়া দেয়।
* নাকে কিছু ঢুকে গেলে নাক সুড়সুড় করে। তবে এক্ষেত্রে মনে
রাখবে, যেই ইন্দ্রিয় টা সাড়া দিল সেটা কিন্তু নাক নয়, সেটা আসলে নাকের ভিতরের ত্বক বা
চামড়া ।
১৪,১৫,১৬ ও ১৭ নং পাতায় মূলত সাঁতার সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
উপরের চারটি পাতা পড়লে আমরা বুঝতে পারবো যে, আমাদের সকলেরই সাঁতার শেখা
উচিত কারন,
* সাঁতার কাটলে অল্প সময়ে সাড়া শরীরের ব্যায়াম হয় । বিশেষ করে শরীরের হাড়ের
জোড় বা জয়েন্ট গুলো নড়াচড়া হওয়ায় জায়গা গুলো সুস্থ থাকে ।
* তাছাড়া, সাঁতার কাটার সময় বার বার লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে হয় যার ফলে শরীরের খুব উপকার হয়। তবে সাঁতার না জেনে গভীর জলে যাওয়া উচিত নয়।
১৮ নং পাতায় একটি ছক করতে দেওয়া আছে । হাঁটার সময়, বিভিন্য খেলার সময়, ও সাঁতার
কাটার সময় কোন কোন জায়গার ব্যায়াম হয় তা সেই ছকে লিখতে বলা হয়েছে । যেমন ধরো-
* হাঁটার সময় = পায়ের ব্যায়াম হয়
* ফুটবল খেলার সময় = পায়ের ব্যায়াম হয় অনেক বেশি
* কবাডি খেলার সময় = মুখ , হাত ও পায়ের ব্যায়াম হয়
* ক্রিকেট (বল করা) = হাত, পা, কাঁধ ও কব্জি র ব্যায়াম হয়
* ক্রিকেট (ব্যাট করা) = হাত, কব্জি, কাঁধ, কোমর ও পা এর কাজ বেশি হয়
* ক্রিকেট (ফিল্ডিং) = হাত, পা, কব্জি, কোমর, কনুই এর কাজ বেশি হয়
* স্কিপিং করার সময় = হাত, কব্জি ও পা এর ব্যায়াম হয়
* ব্যাডমিণ্টন খেলার সময়= হাত, পা, কব্জি র কাজ বেশি হয়
* সাঁতার কাটার সময় = সাড়া শরীরের ব্যায়াম হয়। বিশেষ করে হাড়ের
১৯ ও ২০ নং পাতা পড়লে আমরা আমাদের চারিপাশের নানা ধরনের প্রাণীদের কথা সম্পর্কে
জানতে পারি। যেমন, গোরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, হাঁস, বিভিন্য ধরনের পাখি, মাছ, টিকটিকি,
গিরগিটি, ফড়িং, প্রজাপতি ইত্যাদি।
এদের মধ্যে --
* কেউ কেউ আকাশে ওড়ে (যেমন চড়ুই , শালিক)
* কেউ জলে থাকে ( যেমন মাছ )
* কেউ জল ও ডাঙা দুটোতেই থাকে (যেমন হাঁস)
* কেউ পোকা মাকড় খায় ( যেমন টিকটিকি )
* কেউ রঙ বদলায় (যেমন গিরগিটি)
* কেউ ঘাস খায় (যেমন গোরু, ছাগল)
* কেউ গাছে গাছে ঘুরে বেরায় ও ফুলের মধু খায় (যেমন ফড়িং , প্রজাপতি)
* কেউ কেঁচো খায় ( যেমন শালিক , চড়ুই )
২১ নং পাতায় তোমরা একটা ছক দেখতে পাবে। এই ছকটা তোমাদের পুরন করতে হবে।
এখানে শালিক/কাক, টিকটিকি/গিরগিটি এবং ফড়িং/প্রজাপতি এর কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে
লিখতে হবে । ছকটি করে দেওয়া হল ।
২২ ও ২৩ নং পাতা পড়লে আমরা কাঠবিড়ালি , হুনুমান, গিবন, ও শিম্পাঞ্জির মতো
প্রাণীদের সম্পর্কে জানব ।
এরা প্রত্যেকেই চার পায়ে হাঁটলেও অন্য সময় সামনের পা দুটি কে হাতের মতো ব্যবহার
করতে পারে । * কাঠবিড়ালি হাতে করে পেয়ারা ধরে খেতে পারে
* হুনুমান গাছ থেকে ফল হাত দিয়ে ছিঁড়ে খেতে পারে
* শিম্পাঞ্জি দুই পায়ে অনেক বেশি খাঁড়া ভাবে দাঁড়াতে পারে , গাছ থেকে
ফল হাতে করে পেড়ে তা ছুঁড়েও মারতে পারে ।
২৩ নং পাতার শেষে একটি ছক করতে দেওয়া আছে । দুই হাত ও দুটি পা থাকার ফলে
মানুষের কি কি সুবিধা হয় - সেটা ঐ ছকে লিখতে হবে।
ছকটি নীচে করে দেওয়া হল ।
২৪ ও ২৫ নং পাতা পড়ে আমরা জানতে পারলাম যে,
* কারুর পাখনা থাকে সারাদিন জলে সাঁতার কাটার জন্য
(যেমন মাছ)
* কারুর ডানা থাকে আকাশে ওড়ার জন্য
(যেমন পাখি)
* কারুর শুধু পা থাকে স্থলভাগে চলাফেরা করার জন্য
(যেমন গোরু, ছাগল)
* আবার কারুর চলাফেরা করার জন্য দুটি পা তো থাকেই, তার সাথে
কাজ করার জন্য দুটি হাতও থাকে । (মানুষ, শিম্পাঞ্জি)
দুটি হাত ও বুধিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জীবে পরিনত হয়েছে। তাই সে
উড়তে না পারলেও উড়ে যাবার জন্য উড়োজাহাজ বানিয়েছে । আবার, মাছেদের মতো
দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকতে না পারলেও, ডুবোজাহাজ বানিয়েছে জলের ভিতর দিয়ে
অনেক দূর যাবার জন্য।
২৫ নং পাতার নীচে একটি ছক করতে দেওয়া আছে। ছকটি করে দেওয়া হল ।






















No comments:
Post a Comment